মতুয়া সংঘ

মতূয়া সমাজ (বা মতূয়া সংঘ) হল ১৮৬০-এর দশকে পূর্ববঙ্গে (বর্তমান বাংলাদেশ) শুরু হওয়া একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
মতুয়া সংঘ একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন। শ্রীশ্রী ঠাকুর হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের বিশুদ্ধ মতুয়া আদর্শ, পথ ও বিচারধারার ভিত্তিতে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠিত।
মতুয়া সংঘের মূল উদ্দেশ্য হলো জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক মানুষের সার্বিক উন্নয়ন সাধন। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার প্রসারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা, তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং আত্মমর্যাদাবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করাই এই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।
মতুয়া সংঘ বিশ্বাস করে, মানুষ কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না থেকে কর্মের মাধ্যমে সমাজ ও মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করুক। মানুষ যেন শুধু মূর্তিপূজার মধ্যেই ঈশ্বরকে অনুসন্ধান না করে, বরং মানবসেবার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরত্বের উপলব্ধি লাভ করে—এটাই আমাদের আদর্শ।
মতুয়া সংঘ এমন একটি জাতপাতহীন, ভেদাভেদহীন, সাম্যভিত্তিক ও মানবতাবাদী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে ধর্মের নামে কেউ কাউকে ঘৃণা করবে না, জাতের নামে কাউকে অস্পৃশ্য বা অবহেলিত করা হবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায় এবং মানুষের মর্যাদাই হবে সেই সমাজের মূল ভিত্তি।
আমাদের অঙ্গীকার:
“মানবধর্মই শ্রেষ্ঠ ধর্ম, কর্মই শ্রেষ্ঠ উপাসনা, আর শিক্ষা, সাম্য ও মানবসেবাই আমাদের পথচলার মূল শক্তি।”
নিচে মতূয়া সমাজের ইতিহাসকে প্রধান কয়েকটি পর্যায়ে আলোচনা করা হলো:











