Skip to main content

All India Matua Sangha

1000245338 page 0001

🌸🌸 হরিবোল হরিবোল হরিবোল হরিবোল 🌸🌸

About Us

শ্রীধাম ঠাকুরনগর, ডাকঘর: ঠাকুরনগর, থানা: গাইঘাটা, জেলা: উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ – ৭৪৩২৮৭, ভারত

transparent

মতুয়া সংঘ

eb045011 29a6 4de0 a34b 464bddf7e38f

মতূয়া সমাজ (বা মতূয়া সংঘ) হল ১৮৬০-এর দশকে পূর্ববঙ্গে (বর্তমান বাংলাদেশ) শুরু হওয়া একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন। 

মতুয়া সংঘ একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন। শ্রীশ্রী ঠাকুর হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের বিশুদ্ধ মতুয়া আদর্শ, পথ ও বিচারধারার ভিত্তিতে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠিত।

মতুয়া সংঘের মূল উদ্দেশ্য হলো জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক মানুষের সার্বিক উন্নয়ন সাধন। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার প্রসারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা, তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং আত্মমর্যাদাবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করাই এই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।

মতুয়া সংঘ বিশ্বাস করে, মানুষ কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না থেকে কর্মের মাধ্যমে সমাজ ও মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করুক। মানুষ যেন শুধু মূর্তিপূজার মধ্যেই ঈশ্বরকে অনুসন্ধান না করে, বরং মানবসেবার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরত্বের উপলব্ধি লাভ করে—এটাই আমাদের আদর্শ।

মতুয়া সংঘ এমন একটি জাতপাতহীন, ভেদাভেদহীন, সাম্যভিত্তিক ও মানবতাবাদী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে ধর্মের নামে কেউ কাউকে ঘৃণা করবে না, জাতের নামে কাউকে অস্পৃশ্য বা অবহেলিত করা হবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায় এবং মানুষের মর্যাদাই হবে সেই সমাজের মূল ভিত্তি।

আমাদের অঙ্গীকার:
“মানবধর্মই শ্রেষ্ঠ ধর্ম, কর্মই শ্রেষ্ঠ উপাসনা, আর শিক্ষা, সাম্য ও মানবসেবাই আমাদের পথচলার মূল শক্তি।”

নিচে মতূয়া সমাজের ইতিহাসকে প্রধান কয়েকটি পর্যায়ে আলোচনা করা হলো:

১. শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর যুগ (১৮১২-১৮৭৮): জাগরণের সূচনা
 
  • সামাজিক পটভূমি: সে যুগে বাংলায় চণ্ডাল সম্প্রদায় চরম অস্পৃশ্যতা, অবহেলা ও দারিদ্র্যের শিকার ছিল। তাদের কোনো সামাজিক সম্মান ছিল না, এমনকি মন্দিরে প্রবেশ বা শিক্ষার অধিকারও ছিল না। অনেকে এই অত্যাচার থেকে বাঁচতে অন্য ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছিলেন।
  • মতূয়া ধর্মের জন্ম (১৮৬০-এর দশক): বর্তমান বাংলাদেশের ওড়াকান্দির কাছে সফলডাঙ্গা গ্রামে এক কৃষক পরিবারে জন্ম নেন হরিচাঁদ ঠাকুর। তিনি নিজে এই সামাজিক অপমান প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তিনি বুঝতে পারেন, সামাজিক মুক্তির আগে মানুষের মানসিক ও আধ্যাত্মিক মুক্তি প্রয়োজন।
  • মতূয়া দর্শনের ভিত্তি: ‘মতূয়া’ শব্দের অর্থ যারা ঈশ্বরে মত্ত বা মাতোয়ারা। তিনি বৈদিক ক্রিয়াকাণ্ড, পৈতে ধারণ, তীর্থভ্রমণ বা পুরোহিতের মধ্যস্থতা সম্পূর্ণ বর্জন করেন। তিনি বলেন, শুধু ভক্তি, হরিনাম সংকীর্তন এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমেই মুক্তি সম্ভব।
  • দ্বাদশ বিধান: তিনি সংসারের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি সৎ জীবনযাপনের জন্য ১২টি নিয়ম বা ‘দ্বাদশ বিধান’ দেন (যেমন: সত্য কথা বলা, পরস্ত্রীকে মাতৃজ্ঞান করা, পিতা-মাতাকে ভক্তি করা, ইত্যাদি)। তাঁর এই সহজ পথ সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে আকর্ষণ করে এবং ওড়াকান্দি হয়ে ওঠে এই আন্দোলনের মূল কেন্দ্র।
২.শ্রীশ্রীগুরুচাঁদঠাকুর(১৮৪৬-১৯৩৭): প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ও শিক্ষার বিস্তার
 
হরিচাঁদ ঠাকুরের মৃত্যুর পর তাঁর সুযোগ্য পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর এই আন্দোলনের হাল ধরেন। তিনি আধ্যাত্মিক আন্দোলনকে একটি শক্তিশালী সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপান্তর করেন।
  • নমশূদ্র আন্দোলন (১৮৭২): উচ্চবর্ণের মানুষের অপমানের প্রতিবাদে গুরুচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে সে যুগে চণ্ডাল সম্প্রদায় এক ঐতিহাসিক সামাজিক বয়কট বা ধর্মঘটের ডাক দেয়। তারা উচ্চবর্ণের জমিতে কাজ করা বা তাদের বাড়িতে সেবা করা বন্ধ করে দেয়। এটি ছিল বাংলার অন্যতম প্রথম সফল দলিত আন্দোলন।
  • শিক্ষাই প্রধান অস্ত্র: গুরুচাঁদ ঠাকুর স্লোগান দেন—”হাতে কাজ মুখে নাম, শিক্ষার দিকে দাও মন”। অস্ট্রেলিয়ান মিশনারি ড. সি. এস. মেডের সহযোগিতায় তিনি উচ্চবর্ণের বাধা উপেক্ষা করে অনগ্রসর শ্রেণির শিশুদের জন্য হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
  • আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা: তাঁর দীর্ঘ লড়াইয়ের ফলেই ১৯১১ সালের ব্রিটিশ আদমশুমারিতে (Census) অপমানজনক ‘চণ্ডাল’ শব্দটি তুলে দিয়ে এই সম্প্রদায়কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নমশূদ্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তিনি ‘মতূয়া মহাসংঘ’ নামক প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠন গড়ে তোলেন।
৩. দেশভাগ (১৯৪৭) এবং উদ্বাস্তু সংকট
 
১৯৪৭ সালের ভারতের স্বাধীনতা এবং বঙ্গভঙ্গ মতূয়া সমাজের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আঘাত ছিল। মতূয়া আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ওড়াকান্দি পড়ে যায় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ)।
    • মহাপ্রব্রজন ও অত্যাচার: পূর্ব পাকিস্তানে ধর্মীয় নিপীড়ন এবং জমি দখলের শিকার হয়ে লক্ষ লক্ষ মতূয়া নমশূদ্র পরিবার সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চলে আসতে বাধ্য হন। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় পর্যন্ত এই উদ্বাস্তু আগমন চলতে থাকে।
    • অস্তিত্বের সংকট: নিজের ভিটেমাটি হারিয়ে ভারতে আসার পর এই বিশাল জনজাতি চরম দারিদ্র্য এবং নাগরিকত্বের আইনি জটিলতার (স্থায়ী নথিপত্রের অভাব) মুখোমুখি হয়।

 
৪. ঠাকুরনগরে পুনরুত্থান: প্রমথ রঞ্জন ঠাকুর ও ‘বড়মা’
 
    • শ্রীধাম ঠাকুরনগরের প্রতিষ্ঠা: গুরুচাঁদ ঠাকুরের নাতি ব্যারিস্টার প্রমথ রঞ্জন ঠাকুর (পি. আর. ঠাকুর) বুঝতে পেরেছিলেন যে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া মতূয়া সম্প্রদায়কে টিকিয়ে রাখতে একটি নতুন কেন্দ্রের প্রয়োজন। ১৯৪৮ সালে তিনি উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ‘ঠাকুরনগর’ নামক একটি নতুন জনপদ গড়ে তোলেন, যা আজকের বিশ্ব মতূয়া মহাসংঘের প্রধান কার্যালয় বা ‘ঠাকুরবাড়ি’।
    • বড়মা বীণাপাণি দেবীর যুগ: পি. আর. ঠাকুরের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী বীণাপাণি দেবী (যাঁকে ভক্তরা পরম শ্রদ্ধায় ‘বড়মা’ বলতেন) মতূয়া মহাসংঘের সর্বাধিনায়িকা হন। তাঁর দীর্ঘ মাতৃতান্ত্রিক নেতৃত্বে বিভক্ত মতূয়া সমাজ আবার ঐক্যবদ্ধ হয়। তাঁর প্রভাব এতটাই বৃদ্ধি পায় যে ভারতের সমস্ত রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা ঠাকুরনগরে এসে তাঁর আশীর্বাদ নিতেন।

৫. বর্তমান প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক গুরুত্ব
 
বড়মার প্রয়াণের পর বর্তমানে ঠাকুরবাড়ির নেতৃত্ব তাঁর বংশধরদের মধ্যেই বিভক্ত। তবে ইতিহাস পেরিয়ে আজকের মতূয়া সমাজ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অন্যতম সবচেয়ে নির্ণায়ক শক্তি (Decisive Factor) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। [1]
  • নাগরিকত্ব ও সিএএ (CAA): দেশভাগের পর থেকে চলে আসা উদ্বাস্তু পরিচয়ের স্থায়ী অবসান এবং পূর্ণাঙ্গ ভারতীয় নাগরিকত্বের আইনি অধিকার আদায় করাই এখন মতূয়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং আধুনিক লড়াই। এই কারণেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মতূয়া সমাজ ভারতের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।

মতুয়া সংঘের প্রধান লক্ষ্য হলো—

  • জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি গড়ে তোলা।
  • সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে কাজ করা।
  • শিক্ষা বিস্তার, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ ও সহযোগিতা প্রদান করা।
  • প্রান্তিক ও বঞ্চিত মানুষের আত্মমর্যাদা, অধিকার ও স্বনির্ভরতা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা।
  • ধর্মকে শুধু আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবসেবা, কর্ম ও নৈতিক জীবনযাপনের মাধ্যমে উপলব্ধি করা।

মতুয়া সংঘ বিশ্বাস করে যে মানবসেবা, শিক্ষা, কর্মনিষ্ঠা ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠাই প্রকৃত ধর্মের পথ। এই আদর্শের ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী সমাজ গঠন করাই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য।

মতুয়া দর্শনে স্বাগত

🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩🚩
.........................................

untitled design 18 2024 03 62cdf697057150113311043315913618 16x9

 মতুয়া আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:

 

ঊনবিংশ শতকের প্রথমার্ধে অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুর জেলার ওড়াকান্দিতে শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর (১৮১২–১৮৭৮) মানবধর্ম, সাম্য, শিক্ষা, কর্ম ও সামাজিক ন্যায়ের আদর্শকে ভিত্তি করে মতুয়া ধর্ম ও সমাজসংস্কার আন্দোলনের সূচনা করেন। সে সময় বাংলার দলিত, নমঃশূদ্র ও অন্যান্য সামাজিকভাবে বঞ্চিত জনগোষ্ঠী নানা ধরনের বৈষম্য, অস্পৃশ্যতা ও অবহেলার শিকার ছিল। শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর তাঁদের আত্মমর্যাদা, মানবিক অধিকার এবং সংগঠিত জীবন গঠনের আহ্বান জানান।

পরবর্তীকালে তাঁর পুত্র মুক্তিবারিধী শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর (১৮৪৬–১৯৩৭) এই আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত ও বিস্তৃত করেন। তিনি শিক্ষা, সামাজিক সংস্কার, নারীশিক্ষা, বিধবা বিবাহ, জনস্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং সরকারি চাকরিতে পিছিয়ে পড়া মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর বিখ্যাত বাণী—“বিদ্যা ধর্ম, বিদ্যা কর্ম, বিদ্যা সর্বসার; বিদ্যা বিনা মানবের গতি নাই আর”—মতুয়া আন্দোলনের শিক্ষা-দর্শনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে গ্রামাঞ্চলে বহু পাঠশালা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে নমঃশূদ্র সমাজের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, সংগঠন গঠন এবং অধিকার আদায়ের আন্দোলনও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এই আন্দোলন বাংলার সমাজসংস্কার ও দলিত জাগরণের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

১৯৪২ সালে শ্রী প্রমথরঞ্জন ঠাকুরের উদ্যোগে মতুয়া মহাসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগর মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে এবং ১৯৪৮ সাল থেকে সেখানে মতুয়া ধর্ম মহামেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

পরবর্তী সময়ে মতুয়া আন্দোলনের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে মতুয়া আন্দোলন শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়, মানবিক মর্যাদা, সাম্য, মানবসেবা এবং সামাজিক সম্প্রীতির আদর্শকে সামনে রেখে ভারত ও বাংলাদেশের বহু মানুষের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।

মতুয়া আন্দোলনের মূল শিক্ষা হলো—মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নয়, শিক্ষা, কর্ম, মানবতা, আত্মমর্যাদা এবং সমাজকল্যাণের মাধ্যমে একটি সাম্যভিত্তিক, ন্যায়নিষ্ঠ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা।

মতুয়া সংঘের মিশন (Mission)

মতুয়া সংঘের মিশন হলো শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের মানবতাবাদী, সাম্যবাদী ও সমাজকল্যাণমূলক আদর্শ অনুসরণ করে একটি শিক্ষিত, সচেতন, স্বনির্ভর ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করা।

আমাদের মূল লক্ষ্যসমূহ—

  • জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা।
  • পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক মানুষের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করা এবং উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ ও সহযোগিতা প্রদান করা।
  • দরিদ্র ও অসহায় মানুষের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা গড়ে তুলতে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
  • নারী শিক্ষা, নারী মর্যাদা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা।
  • সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার, বৈষম্য ও অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা।
  • ধর্মকে মানবসেবা, কর্ম, নৈতিকতা ও সমাজকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করে একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
  • তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষা, সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করা।

আমাদের বিশ্বাস:
“শিক্ষা, কর্ম, মানবতা ও সেবার মাধ্যমে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই মতুয়া সংঘের প্রধান লক্ষ্য।”

download (35)
image c90b884e

মতুয়া সংঘের ভিশন (Vision)

মতুয়া সংঘের ভিশন হলো শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের মানবতাবাদী আদর্শের আলোকে একটি শিক্ষিত, ন্যায়ভিত্তিক, সাম্যবাদী, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা—যেখানে প্রত্যেক মানুষ তার মর্যাদা, অধিকার ও সম্ভাবনা নিয়ে স্বাধীনভাবে এগিয়ে যেতে পারে।

আমাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্যসমূহ—

  • এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য থাকবে না।
  • শিক্ষা ও জ্ঞানের আলোয় প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনকে উন্নত করা।
  • আত্মমর্যাদাবোধ, স্বনির্ভরতা ও সামাজিক নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ করা।
  • মানবসেবা, ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
  • তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ, শিক্ষিত ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।
  • নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
  • একটি শান্তিপূর্ণ, অসাম্প্রদায়িক ও মানবকল্যাণমূলক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

আমাদের স্বপ্ন:
“একটি এমন মানবিক সমাজ, যেখানে শিক্ষা হবে শক্তি, কর্ম হবে পরিচয়, মানবতা হবে ধর্ম এবং মানুষের মর্যাদাই হবে সর্বোচ্চ মূল্যবোধ।”

 
 

মতুয়া মূল্যবোধের মূল ভিত্তি (Values)

🌸 1. মানবতা (Humanity)
মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সম্মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। মানবসেবার মধ্য দিয়ে প্রকৃত ধর্ম ও ঈশ্বরের উপলব্ধি করা।

📖 2. শিক্ষা (Education)
শিক্ষাকে আত্মমর্যাদা, জ্ঞান, উন্নয়ন ও সামাজিক মুক্তির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করা।

⚖️ 3. সাম্য ও ন্যায় (Equality & Justice)
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে সকল বৈষম্যের বিরোধিতা করা এবং সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

💪 4. আত্মমর্যাদা ও স্বনির্ভরতা (Dignity & Self-Reliance)
প্রত্যেক মানুষকে নিজের মর্যাদা রক্ষা, কর্মনিষ্ঠা ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা।

🤝 5. সেবা ও সমাজকল্যাণ (Service & Social Welfare)
অসহায়, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করা।

🌱 6. কর্ম ও নৈতিক জীবন (Work & Moral Living)
শুধু আচার-অনুষ্ঠান নয়, সৎ কর্ম, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল জীবনযাপনকে গুরুত্ব দেওয়া।

🕊️ 7. সম্প্রীতি ও ঐক্য (Harmony & Unity)
ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সামাজিক বিভাজন দূর করে শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা।

সংক্ষেপে:
শিক্ষা • সাম্য • মানবতা • কর্ম • সেবা • আত্মমর্যাদা • ঐক্য — এই সাতটি স্তম্ভ মতুয়া মূল্যবোধের মূল ভিত্তি।

1715478290 rabi matua

মতুয়া সংঘের নেতৃবৃন্দের পরিচিতি

ডা. সুকেশ চৌধুরী

পদ: সহ-প্রতিষ্ঠাতা (Co-Founder)
সংগঠন: মতুয়া সংঘ (Matua Sangha)

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
সুকেশ চৌধুরী মতুয়া সংঘের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সংগঠনের আদর্শ, উদ্দেশ্য ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের মানবতাবাদী দর্শন, শিক্ষা, সাম্য, মানবসেবা ও সামাজিক উন্নয়নের ভাবধারাকে সামনে রেখে মতুয়া সংঘের অগ্রযাত্রায় তিনি ভূমিকা পালন করছেন।

মূল অবদান:
• মতুয়া সংঘের সাংগঠনিক ভিত্তি গঠনে অংশগ্রহণ
• শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা ও মানবকল্যাণমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা
• মতুয়া আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রচার

499847729 1162095109006195 2693000244488979118 n
pngtree bhagwa jhanda vector png image 7090028

মতুয়া সংঘের স্মরণীয় মুহূর্তসমূহ

475971755 1085531286662578 2136610135869214799 n
480405751 1094167712465602 7505507945834353694 n
481058108 1102019755013731 8498095168268671631 n
480975062 1101168191765554 4947332110739032868 n
480410686 1094167739132266 4074389661572807298 n
480785801 1101170425098664 7309704594173151326 n
480918760 1102020028347037 7934265665257260400 n
657603244 122265894308161901 3634429883416948961 n